মেনু নির্বাচন করুন
Text size A A A
Color C C C C

রবীন্দ্র কাছারী বাড়ি

আত্রাই উপজেলার মনিয়ারী ইউনিয়নের পতিসরে নাগর নদেরতীরে রবী ঠাকুরের এ পতিসর কুঠিবাড়ী অবস্থিত। পৈত্রিকসূত্রে প্রাপ্ত কালিগ্রাম পরগনার জমিদারী দেখাশোনার জন্য কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ১৮৯১সালে সর্বপ্রথম পতিসরে আসেন। জমিদারী দেখা শোনার জন্য এলেও প্রকৃতি ও মানবপ্রেমী কবি অবহেলিত পতিসর এলাকার মানুষের জন্য দাতব্য চিকিৎসালয় ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠানসহ অনেক জনহিতিষি কাজ করেন। এখানকার কৃষকের কল্যাণে নোবেল পুরস্কারের ১ লক্ষ ৮ হাজার টাকা দিয়ে এখানে একটি কৃষি ব্যাংকস্থাপন করেন। কবির সাহিত্য সৃষ্টির একটি বিশাল অংশ জুড়ে রয়েছে পতিসর।পতিসরে বসেই কবি- চিত্রা, পূর্ণিমা, সন্ধ্যা, গোরা, ঘরে-বাইরেসহ অসংখ্যগ্রন্থ রচনা করেন। ১৯৩৭ সালের ২৭ জুলাই রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শেষবারের মতপতিসরে আসেন। রবীন্দ্রনাথের স্মৃতি বুকে নিয়ে আজও দাঁড়িয়ে আছে পতিসরকুঠিবাড়ী। প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ ১৯৯০ সালে  এ কুঠি বাড়ীটির দায়িত্ব গ্রহণ করে।ক্রয়সূত্রে ১৮৩০ সালে রবীন্দ্রনাথের পিতামহ দ্বারকানাথ ঠাকুর কালিগ্রামপরগনা জমিদারির অন্তর্ভূক্ত করেন। পতিসর কালিগ্রাম পরগনার সদর দপ্তর।নওগাঁ, বগুড়া ও নাটোর জেলার ছয়’শ টি গ্রাম নিয়ে কালিগ্রাম পরগনা গঠিত। এরআয়তন ছিল ২৩০ বর্গমাইল। রাতোয়াল আর ভান্ডারগ্রাম আরো দুটি সাব কাচারী ছিল।রাতোয়াল পতিসর থেকে ১০ কিলোমিটার আর ভান্ডারগ্রাম ২০ কিলোমিটার উত্তরেঅবস্থিত। কালিগ্রাম পরগনার সীমানা ছিল উত্তরে মালশন আদমদিঘী দক্ষিণেআত্রাইনদী, পূর্বে নাগর নদীর পশ্চিম তীর আর পশ্চিমে নাগর বিধৌঁত বাঁকা-কাশিয়াবাড়িগ্রাম।  কলকাতার জোড়াসাঁকোর ঠাকুর পরিবারের বাংলাদেশে ছিল তিঁনটি জমিদারী।পতিসরে কবির গুরুর আসা ইচ্ছাকৃতভাবে নয়, অনেকটাই ভাগ্যক্রমে । এজমালিসম্পত্তির সবশেষ ভাগে বিরাহিমপুর ও কালিগ্রাম পরগনার মধ্যে সত্যেন্দ্রপুত্র সুরেন্দ্রনাথকে তাঁর পছন্দের অংশ বেছে নিতে বললে সে তখন বিরাহিমপুরকেপছন্দ করে তখন স্বভাবতই রবীন্দ্রনাথের অংশে এসে পরে কালিগ্রাম পরগনা যারসদর পতিসর।প্রথমে পতিসর তাঁকে ভাল লাগেনি। কিন্তু পরবর্তীতৈ পতিসরেরপ্রাকৃতিক সৌন্দর্য তাঁকে মুগ্ধ করে। মুগ্ধ করে কালীগ্রামের সহজ সরল প্রজাসাধারণের ভক্তি ও শ্রদ্ধা। এখানে এসে তিনি কৃষকদের খুব কাছাকাছি আসতে সক্ষমহয়েছিলেন। এতে কৃষকের অর্থনীতি সম্পর্ককে ভালো ধারণাজন্মেছিল। পতিসরেরপ্রতি রবীন্দ্রনাথের ছিল অগাধ ভালবাসা, ছিল এখানকার মানুষের প্রতিও। তারবিচক্ষণতা দিয়ে প্রজাহ্নদয় জয় করেছিলেন। জমিদারি পরিচালনা পদ্ধতিও ছিলআধুনিক ও বিজ্ঞান সম্মত। তাই তিনি তাদের আপনজন হয়ে যান। তখন প্রজা ওজমিদারের সম্পর্কের ব্যবধান কমে আসে।তিনি অনুন্নত পরগনার রাস্তা-ঘাটশিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও দারিদ্র বিমোচনসহ নানাবিধ উন্নয়নমূলক কর্মসূচিহাতে নেন। কর্মসূচির মধ্যে ছিল গ্রামে গ্রামে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষিশিল্প, ব্যাংক স্থাপন, রাস্তাঘাট নির্মান, কূপ, দীঘি ও পুকুর খনন, জঙ্গলপরিস্কার, গ্রাম্য শালিশী ব্যবস্থা ও মহাজনের সুদের হাত থেকে দরিদ্রপ্রজাদের রক্ষা করা। এসব কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য পরগনাকে ৩টি বিভাগে ভাগকরেন। কালিগ্রাম ”হিতৈষী সভা” নামে একটি সংগঠন তৈরী করেন। কালীগ্রামপরগনার প্রজাদেরকে শিক্ষার আলোয় আলোকিত করার জন্য রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ১৯১৩সালে পতিসর, রাতোয়াল ও কামতা ৩টি বিভাগে ৩টি মধ্য ইংরেজী (এম.ই) স্কুল ওপতিসরে ছেলে রথীন্দ্রনাথের নামে ১টি হাইস্কুল স্থাপন করেন। স্কুলের ভবন, ছাত্রাবাস নির্মাণ ও অন্যান্য খরচ এস্টেট থেকে বহন করা হতো। পতিসরে অবস্থিতকালীগ্রাম রথীন্দ্রনাথ ইনষ্টিটিউশনের প্রথমে নাম ছিল পতিসর এম.ই স্কুল।পরবর্তীতে ১৯৩৭ সালে বিদ্যালয়টি হাইস্কুলে রুপান্তরিত  হয়। প্রসঙ্গতউল্লেখ্য এটি ছিল নওগাঁর জেলার তৃতীয় হাইস্কুল। ১৯১৩ সালের জানুয়ারী মাসেরাতোয়াল বিভাগে একটি বিদ্যালয় এবং কামতায় আরো একটি বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়।প্রতিষ্ঠান গুলোর প্রতিষ্ঠাতা বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর নিজেই।একথা বলামোটেই অত্যুক্তি হবে না যে, পূর্ব বাংলায় ’জমিদারি’ করতে এসে রবীন্দ্রনাথপ্রকৃতই নিজেকে আবিস্কার করেছিলেন নতুন করে। পতিসরে বসেই তিনি গোরা ও ঘরেবাহিরে (অংশ বিশেষ) উপন্যাস, ছোট গল্প ’প্রতিহিংসা’ ও ঠাকুরদা, লিখার রসদপেয়েছিলেন। পূর্ণিমা, সন্ধ্যা, চৈতালি-মধ্যাহ্ন, পল্লীগ্রামে, সামান্য লোক, দুর্লভ জন্ম, খেয়া, কর্ম , মেঘদূত, দিদি , পরিচয়, অনন্তপথে ’র মত অনেককবিতা রচনা করেছিলেন। রচনা করেছিলেন কিছু হৃদয় স্পর্শ করার মত গান যেমনবিধি ডাগর আাঁখি—-, জলে ডোবা চিকন শ্যামল—-, বধু মিছে রাগ করো না—-, আমিকান পেতে রই —, তুমি নব রুপে এসো প্রানে—-।রবীন্দ্রনাথ তাঁর হৃদয়েরঅন্তঃস্থলে অনুভব করেন দরিদ্র প্রজাদের দুঃখ দুঃদশার কথা। জমিদারিপরিচালনার ক্ষেত্রে তিনি কখনও প্রজা পীড়ক হতে পারেননি। উল্টো দিকে তিনিখাজনা মওকুফ করেছিলেন তার সমগ্র জমিদারীতে। পল্লীর উন্নয়ন ও কর্মপরিকল্পনার রুপকার ছিলেন রবীন্দ্রনাথ। এ পরিকল্পনার বাস্তবায়ন হিসাবে এবংমহাজনদের হাত থেকে কৃষকদের মুক্ত করতে সমবায় পদ্ধতিতে ১৯০৫ সালে কালিগ্রামপরগনার পতিসরে কৃষি ব্যাংক স্থাপন করেছিলেন । নোবেল পুরস্কারের ১লক্ষ ৮হাজার টাকা এই ব্যাংকে বিনিয়োগ করা হয়।  ১৯১০ সালে উত্তরবঙ্গের মহাপ্লাবনেরপর আচার্য প্রফুল্লচন্দ্র রায় মহাশয়ের বন্যাত্রাণ ফান্ডে কিছু টাকাউদ্বৃত্ত হইয়াছিল এবং এই টাকায় আমেরিকা হইতে কয়েকটি ট্রাক্টর ক্রয় করা হয়।রবীন্দ্রনাথ একটি ট্রাক্ট্রর লইয়া পতিসর অঞ্চলে কলের লাঙ্গল দিয়া জমি চাষপ্রবর্তন করেন। ট্রাক্ট্রর পাওয়া গেলে, কিন্তু চালক পাওয়া গেল না। পুত্ররথীন্দ্রনাথ আমেরিকায় কৃষিবিদ্যা শিক্ষাকালে ট্রাক্ট্রর চালনা করিয়াছেন।পতিসরে তাই তিনি ট্রাক্ট্ররের ড্রাইভার রুপে আশে পাশে জমি চাষ করিয়াছেন।যন্ত্রদানবের কার্যকলাপ দেখিতে প্রথম দিন হাজার হাজার লোক পতিসরে উপস্থিতহইয়াছিল। ১৯৩৭ সালে তিনি পতিসর ছেড়ে চলে যাওয়ার সময় সব সম্পদ প্রজাদেরমধ্যে দান করে দেন।কাচারী বারির ভেতরে ঢুকতেই পড়বে রবিঠাকুরের আবক্ষমূর্তি। এর ভাস্কর কণক কুমার পাঠান।ঘরগুলো কবির ব্যবহার্য বিভিন্নতৈজসপত্র, নানা রকম সামগ্রী, তাঁর হস্তলিপি আর বিভিন্ন ছবিতে ভরা। একটিবাথটাব, একটি নোঙর, বিশাল আয়না, আরাম কেদারা, ওয়্যারড্রব, ঘড়ি, গ্লোব, সিন্দুক, খাজনা আদায়ের টেবিল, খাট, আলমারি, দরজার পাল্লা, জানালা ইত্যাদি।পাশেইরয়েছেকবির ছেলের নামে প্রতিষ্ঠিত রথীন্দ্রনাথ ইনস্টিটিউশন।যোগাযোগনওগাঁরআত্রাই এর সঙ্গে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মধ্যে ট্রেন যোগাযোগ খুবই ভালো।তাই আত্রাই এ আসতে হলে ট্রেনে আসাই উত্তম। ঢাকা থেকে আন্তনগর ট্রেননীলসাগর, লালমনি এক্সপ্রেসে চড়ে প্রথমে আত্রাই আসতে পারেন। এছাড়াও নওগাঁ ওনাটোরের সঙ্গে আত্রাই এর যোগযোগ ভালো। দেশের যেকোনো প্রান্ত থেকে বাস কিংবাট্রেনে নওগাঁ/শান্তাহার বা নাটোর এসে পরে আত্রাই আসতে পারেন। নাটোর থেকেআত্রাই বাস, ট্রেন ও নদীপথে নৌকায় আত্রাই আসা যায়। আত্রাই থেকে পতিসরকাচারিবাড়ি যেতে হবে নসিমনে চড়ে, যা পর্যটকদের ভ্রমণে নতুন মাত্রা যোগ করতেপারে। ট্রেন স্টেশনের নিচেই রয়েছে নসিমন/ভুটভুটি স্টেশন। আত্রাই থেকেপতিসরের দূরুত্ব ১৪ কিমি.।কোথায় থাকবেনকাচারিবাড়িরদক্ষিণ দিকে শান বাঁধানো রবীন্দ্র সরোবরের পাড়ে রয়েছে জেলা পরিষদের দোতালাভবন। থাকতে চাইলে আগে থেকে আত্রাই উপজেলা পরিষদের অনুমতি নিতে হবে এবংখাবার ব্যাপারটিও নিশ্চিত করে আসতে হবে। এখানকার বিশেষ খাবারের মধ্যে রয়েছেনদী ও বিলের দেশীয় প্রজাতির বিভিন্ন সুস্বাদু মাছ।ভ্রমণের উপযুক্ত সময়রবীন্দ্রনাথেরজন্ম দিবস ২৫ বৈশাখকে ঘিরে এখানে জাতীয় পর্যায়ের রবীন্দ্র উৎসব ও মেলা হয়।এ সময় দেশ-বিদেশের রবীন্দ্রপ্রেমী মানুষের ঢল নামে, তখন এখানে আসতে পারেন।বর্ষার সময় এখানে আসলে কুঠিবাড়ির পাশাপাশি এখানকার নদী, পাশের বিশাল বিলেনৌকা নিয়ে ঘুরতে পারেন। তাছাড়াও বছরের যেকোনো সময় আসতে পারেনরবীন্দ্রস্মৃতি বিজড়িত পতিসরের টানে।আত্রাই উপজেলার মনিয়ারী ইউনিয়নের পতিসরে নাগর নদেরতীরে রবী ঠাকুরের এ পতিসর কুঠিবাড়ী অবস্থিত। পৈত্রিকসূত্রে প্রাপ্তকালিগ্রাম পরগনার জমিদারী দেখাশোনার জন্য কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ১৮৯১সালে সর্বপ্রথম পতিসরে আসেন। জমিদারী দেখা শোনার জন্য এলেও প্রকৃতি ও মানবপ্রেমী কবি অবহেলিত পতিসর এলাকার মানুষের জন্য দাতব্য চিকিৎসালয় ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠানসহ অনেক জনহিতিষি কাজ করেন। এখানকার কৃষকের কল্যাণে নোবেল পুরস্কারের ১ লক্ষ ৮ হাজার টাকা দিয়ে এখানে একটি কৃষি ব্যাংকস্থাপন করেন। কবির সাহিত্য সৃষ্টির একটি বিশাল অংশ জুড়ে রয়েছে পতিসর।পতিসরে বসেই কবি- চিত্রা, পূর্ণিমা, সন্ধ্যা, গোরা, ঘরে-বাইরেসহ অসংখ্যগ্রন্থ রচনা করেন। ১৯৩৭ সালের ২৭ জুলাই রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শেষবারের মতপতিসরে আসেন। রবীন্দ্রনাথের স্মৃতি বুকে নিয়ে আজও দাঁড়িয়ে আছে পতিসরকুঠিবাড়ী। প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ ১৯৯০ সালে  এ কুঠি বাড়ীটির দায়িত্ব গ্রহণ করে।ক্রয়সূত্রে ১৮৩০ সালে রবীন্দ্রনাথের পিতামহ দ্বারকানাথ ঠাকুর কালিগ্রামপরগনা জমিদারির অন্তর্ভূক্ত করেন। পতিসর কালিগ্রাম পরগনার সদর দপ্তর।নওগাঁ, বগুড়া ও নাটোর জেলার ছয়’শ টি গ্রাম নিয়ে কালিগ্রাম পরগনা গঠিত। এরআয়তন ছিল ২৩০ বর্গমাইল। রাতোয়াল আর ভান্ডারগ্রাম আরো দুটি সাব কাচারী ছিল।রাতোয়াল পতিসর থেকে ১০ কিলোমিটার আর ভান্ডারগ্রাম ২০ কিলোমিটার উত্তরেঅবস্থিত। কালিগ্রাম পরগনার সীমানা ছিল উত্তরে মালশন আদমদিঘী দক্ষিণেআত্রাইনদী, পূর্বে নাগর নদীর পশ্চিম তীর আর পশ্চিমে নাগর বিধৌঁত বাঁকা-কাশিয়াবাড়িগ্রাম।  কলকাতার জোড়াসাঁকোর ঠাকুর পরিবারের বাংলাদেশে ছিল তিঁনটি জমিদারী।পতিসরে কবির গুরুর আসা ইচ্ছাকৃতভাবে নয়, অনেকটাই ভাগ্যক্রমে । এজমালিসম্পত্তির সবশেষ ভাগে বিরাহিমপুর ও কালিগ্রাম পরগনার মধ্যে সত্যেন্দ্রপুত্র সুরেন্দ্রনাথকে তাঁর পছন্দের অংশ বেছে নিতে বললে সে তখন বিরাহিমপুরকেপছন্দ করে তখন স্বভাবতই রবীন্দ্রনাথের অংশে এসে পরে কালিগ্রাম পরগনা যারসদর পতিসর।প্রথমে পতিসর তাঁকে ভাল লাগেনি। কিন্তু পরবর্তীতৈ পতিসরেরপ্রাকৃতিক সৌন্দর্য তাঁকে মুগ্ধ করে। মুগ্ধ করে কালীগ্রামের সহজ সরল প্রজাসাধারণের ভক্তি ও শ্রদ্ধা। এখানে এসে তিনি কৃষকদের খুব কাছাকাছি আসতে সক্ষমহয়েছিলেন। এতে কৃষকের অর্থনীতি সম্পর্ককে ভালো ধারণাজন্মেছিল। পতিসরেরপ্রতি রবীন্দ্রনাথের ছিল অগাধ ভালবাসা, ছিল এখানকার মানুষের প্রতিও। তারবিচক্ষণতা দিয়ে প্রজাহ্নদয় জয় করেছিলেন। জমিদারি পরিচালনা পদ্ধতিও ছিলআধুনিক ও বিজ্ঞান সম্মত। তাই তিনি তাদের আপনজন হয়ে যান। তখন প্রজা ওজমিদারের সম্পর্কের ব্যবধান কমে আসে।তিনি অনুন্নত পরগনার রাস্তা-ঘাটশিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও দারিদ্র বিমোচনসহ নানাবিধ উন্নয়নমূলক কর্মসূচিহাতে নেন। কর্মসূচির মধ্যে ছিল গ্রামে গ্রামে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষিশিল্প, ব্যাংক স্থাপন, রাস্তাঘাট নির্মান, কূপ, দীঘি ও পুকুর খনন, জঙ্গলপরিস্কার, গ্রাম্য শালিশী ব্যবস্থা ও মহাজনের সুদের হাত থেকে দরিদ্রপ্রজাদের রক্ষা করা। এসব কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য পরগনাকে ৩টি বিভাগে ভাগকরেন। কালিগ্রাম ”হিতৈষী সভা” নামে একটি সংগঠন তৈরী করেন। কালীগ্রামপরগনার প্রজাদেরকে শিক্ষার আলোয় আলোকিত করার জন্য রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ১৯১৩সালে পতিসর, রাতোয়াল ও কামতা ৩টি বিভাগে ৩টি মধ্য ইংরেজী (এম.ই) স্কুল ওপতিসরে ছেলে রথীন্দ্রনাথের নামে ১টি হাইস্কুল স্থাপন করেন। স্কুলের ভবন, ছাত্রাবাস নির্মাণ ও অন্যান্য খরচ এস্টেট থেকে বহন করা হতো। পতিসরে অবস্থিতকালীগ্রাম রথীন্দ্রনাথ ইনষ্টিটিউশনের প্রথমে নাম ছিল পতিসর এম.ই স্কুল।পরবর্তীতে ১৯৩৭ সালে বিদ্যালয়টি হাইস্কুলে রুপান্তরিত  হয়। প্রসঙ্গতউল্লেখ্য এটি ছিল নওগাঁর জেলার তৃতীয় হাইস্কুল। ১৯১৩ সালের জানুয়ারী মাসেরাতোয়াল বিভাগে একটি বিদ্যালয় এবং কামতায় আরো একটি বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়।প্রতিষ্ঠান গুলোর প্রতিষ্ঠাতা বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর নিজেই।একথা বলামোটেই অত্যুক্তি হবে না যে, পূর্ব বাংলায় ’জমিদারি’ করতে এসে রবীন্দ্রনাথপ্রকৃতই নিজেকে আবিস্কার করেছিলেন নতুন করে। পতিসরে বসেই তিনি গোরা ও ঘরেবাহিরে (অংশ বিশেষ) উপন্যাস, ছোট গল্প ’প্রতিহিংসা’ ও ঠাকুরদা, লিখার রসদপেয়েছিলেন। পূর্ণিমা, সন্ধ্যা, চৈতালি-মধ্যাহ্ন, পল্লীগ্রামে, সামান্য লোক, দুর্লভ জন্ম, খেয়া, কর্ম , মেঘদূত, দিদি , পরিচয়, অনন্তপথে ’র মত অনেককবিতা রচনা করেছিলেন। রচনা করেছিলেন কিছু হৃদয় স্পর্শ করার মত গান যেমনবিধি ডাগর আাঁখি—-, জলে ডোবা চিকন শ্যামল—-, বধু মিছে রাগ করো না—-, আমিকান পেতে রই —, তুমি নব রুপে এসো প্রানে—-।রবীন্দ্রনাথ তাঁর হৃদয়েরঅন্তঃস্থলে অনুভব করেন দরিদ্র প্রজাদের দুঃখ দুঃদশার কথা। জমিদারিপরিচালনার ক্ষেত্রে তিনি কখনও প্রজা পীড়ক হতে পারেননি। উল্টো দিকে তিনিখাজনা মওকুফ করেছিলেন তার সমগ্র জমিদারীতে। পল্লীর উন্নয়ন ও কর্মপরিকল্পনার রুপকার ছিলেন রবীন্দ্রনাথ। এ পরিকল্পনার বাস্তবায়ন হিসাবে এবংমহাজনদের হাত থেকে কৃষকদের মুক্ত করতে সমবায় পদ্ধতিতে ১৯০৫ সালে কালিগ্রামপরগনার পতিসরে কৃষি ব্যাংক স্থাপন করেছিলেন । নোবেল পুরস্কারের ১লক্ষ ৮হাজার টাকা এই ব্যাংকে বিনিয়োগ করা হয়।  ১৯১০ সালে উত্তরবঙ্গের মহাপ্লাবনেরপর আচার্য প্রফুল্লচন্দ্র রায় মহাশয়ের বন্যাত্রাণ ফান্ডে কিছু টাকাউদ্বৃত্ত হইয়াছিল এবং এই টাকায় আমেরিকা হইতে কয়েকটি ট্রাক্টর ক্রয় করা হয়।রবীন্দ্রনাথ একটি ট্রাক্ট্রর লইয়া পতিসর অঞ্চলে কলের লাঙ্গল দিয়া জমি চাষপ্রবর্তন করেন। ট্রাক্ট্রর পাওয়া গেলে, কিন্তু চালক পাওয়া গেল না। পুত্ররথীন্দ্রনাথ আমেরিকায় কৃষিবিদ্যা শিক্ষাকালে ট্রাক্ট্রর চালনা করিয়াছেন।পতিসরে তাই তিনি ট্রাক্ট্ররের ড্রাইভার রুপে আশে পাশে জমি চাষ করিয়াছেন।যন্ত্রদানবের কার্যকলাপ দেখিতে প্রথম দিন হাজার হাজার লোক পতিসরে উপস্থিতহইয়াছিল। ১৯৩৭ সালে তিনি পতিসর ছেড়ে চলে যাওয়ার সময় সব সম্পদ প্রজাদেরমধ্যে দান করে দেন।কাচারী বারির ভেতরে ঢুকতেই পড়বে রবিঠাকুরের আবক্ষমূর্তি। এর ভাস্কর কণক কুমার পাঠান।ঘরগুলো কবির ব্যবহার্য বিভিন্নতৈজসপত্র, নানা রকম সামগ্রী, তাঁর হস্তলিপি আর বিভিন্ন ছবিতে ভরা। একটিবাথটাব, একটি নোঙর, বিশাল আয়না, আরাম কেদারা, ওয়্যারড্রব, ঘড়ি, গ্লোব, সিন্দুক, খাজনা আদায়ের টেবিল, খাট, আলমারি, দরজার পাল্লা, জানালা ইত্যাদি।পাশেইরয়েছেকবির ছেলের নামে প্রতিষ্ঠিত রথীন্দ্রনাথ ইনস্টিটিউশন।যোগাযোগনওগাঁরআত্রাই এর সঙ্গে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মধ্যে ট্রেন যোগাযোগ খুবই ভালো।তাই আত্রাই এ আসতে হলে ট্রেনে আসাই উত্তম। ঢাকা থেকে আন্তনগর ট্রেননীলসাগর, লালমনি এক্সপ্রেসে চড়ে প্রথমে আত্রাই আসতে পারেন। এছাড়াও নওগাঁ ওনাটোরের সঙ্গে আত্রাই এর যোগযোগ ভালো। দেশের যেকোনো প্রান্ত থেকে বাস কিংবাট্রেনে নওগাঁ/শান্তাহার বা নাটোর এসে পরে আত্রাই আসতে পারেন। নাটোর থেকেআত্রাই বাস, ট্রেন ও নদীপথে নৌকায় আত্রাই আসা যায়। আত্রাই থেকে পতিসরকাচারিবাড়ি যেতে হবে নসিমনে চড়ে, যা পর্যটকদের ভ্রমণে নতুন মাত্রা যোগ করতেপারে। ট্রেন স্টেশনের নিচেই রয়েছে নসিমন/ভুটভুটি স্টেশন। আত্রাই থেকেপতিসরের দূরুত্ব ১৪ কিমি.।কোথায় থাকবেনকাচারিবাড়িরদক্ষিণ দিকে শান বাঁধানো রবীন্দ্র সরোবরের পাড়ে রয়েছে জেলা পরিষদের দোতালাভবন। থাকতে চাইলে আগে থেকে আত্রাই উপজেলা পরিষদের অনুমতি নিতে হবে এবংখাবার ব্যাপারটিও নিশ্চিত করে আসতে হবে। এখানকার বিশেষ খাবারের মধ্যে রয়েছেনদী ও বিলের দেশীয় প্রজাতির বিভিন্ন সুস্বাদু মাছ।ভ্রমণের উপযুক্ত সময়রবীন্দ্রনাথেরজন্ম দিবস ২৫ বৈশাখকে ঘিরে এখানে জাতীয় পর্যায়ের রবীন্দ্র উৎসব ও মেলা হয়।এ সময় দেশ-বিদেশের রবীন্দ্রপ্রেমী মানুষের ঢল নামে, তখন এখানে আসতে পারেন।বর্ষার সময় এখানে আসলে কুঠিবাড়ির পাশাপাশি এখানকার নদী, পাশের বিশাল বিলেনৌকা নিয়ে ঘুরতে পারেন। তাছাড়াও বছরের যেকোনো সময় আসতে পারেনরবীন্দ্রস্মৃতি বিজড়িত পতিসরের টানে।